ধর্ষণের মামলায় সন্তানকে ওয়ারিশ ঘোষণাসহ ধর্ষকের যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ০৮ ২০২১, ২০:০১

মোঃ আবু সালেহ ,রংপুর জেলা প্রতিনিধি :রংপুরে ধর্ষণের ফলে সন্তান জন্মদানের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সন্তানকে ওয়ারিশ ঘোষণাসহ ভরণপোষণ দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ রায় দেন রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পীরগাছার অন্নদানগর গ্রামের দিনমজুর হানিফ উদ্দিনের মেয়েকে (তৎকালীন ১৪ বছর বয়স) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন প্রতিবেশী মৃত মজিবর রহমানের ছেলে শফিকুল ইসলাম (তৎকালীন ২২ বছর বয়স)। এরই এক পর্যায়ে ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর বিকেলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন শফিকুল। পরে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় মেয়েটি সন্তানের স্বীকৃতি দাবি করলে অস্বীকার করেন শফিকুল।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে আদালতে শফিকুলসহ তার বাবা মজিবর রহমান, চাচা মমতাজ উদ্দিন ও ফুফু নজিরনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন ওই কিশোরী।

আদালতের নির্দেশে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর এবং ধর্ষকের ডিএনএ পরীক্ষা ও ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে চাচা মমতাজ উদ্দিন ও ফুফু নজিরনকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। মামলা চলাকালীন অবস্থায় শফিকুলের বাবা মজিবর রহমান মারা যান।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়াও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ধর্ষকের ওয়ারিশ হিসেবে ঘোষণা করে সম্পত্তির অংশীদারিত্ব দেওয়ার রায় দিয়েছেন বিচারক। যদি তার কোনো সম্পত্তি না থাকে তাহলে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব গ্রহণের আদেশ দেন।


ব্রেকিং নিউজ