শুটিং বাড়ি ভাড়া না দিতে পারায় আটকা ‘বাংলার ভাবী’র ইউনিট

অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

জানুয়ারি ১৪ ২০২১, ১৩:৩১

দীর্ঘ বিরতি শেষে পর্দায় ফিরছেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি ওমর সানী-মৌসুমী। সম্প্রতি ‘বাংলার ভাবী’ নামের একটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তারা। নতুন স্বাভাবিক অবস্থায় গত ৬ জানুয়ারি শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন।

শুটিং শেষে ঢাকা ফিরেন সানী-মৌসুমী। এদিকে, শুটিং হাউজ ভাড়া না দিতে পারায় গাজীপুরের হোতাপাড়া খতিব খামার বাড়ি আটকে রাখা হয়েছে ‘বাংলার ভাবী’ সিনেমার ইউনিট। সেখানে গত ৬ জানুয়ারি সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়।

মঙ্গলবার রাত ১টায় প্রথম অংশের কাজ শেষ হয়। রাতেই পুরো ইউনিট ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। শিল্পীরা ফিরলেও শুটিং হাউজ ভাড়া না দিতে পারায় ইউনিট কে আটকে রেখেছেন হাউজ কর্তৃপক্ষ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খতিব খামার বাড়ির ম্যানেজার ফারুক।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতেই শুটিং শেষ হয়। তারা এক টানা শুটিং করেন। এ কয়দিনে হাউজ ভাড়া আসে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু এখনও ভাড়ার এক টাকাও পাইনি। টাকা না দেওয়ায় ইউনিট আটকে রেখেছি।

ছবিটির চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করছেন আসাদুজ্জামান মজনু। ছবিটি পরিচালনা করছেন নূর মোহাম্মদ মনি। এতে ওমর সানী-মৌসুমী ছাড়াও আরও অভিনয় করছেন বড়দা মিঠু, মেহেদী, আসমা ঝিলিক, সাগর সহ অনেকেই। আর নায়িকা হিসেবে নাম শোনা গেছে ‘বয়ফ্রেন্ড’ ছবির নায়িকা সেমন্তী সৌমির কথা। তবে তিনি বললেন ভিন্ন কথা।

সৌমি জানান, আমার সাথে ছবিটির জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। এ নিয়ে মৌসুমী আপুর সাথেও কথা হয়েছে। কিন্তু এখনও এ বিষযে চূড়ান্ত কিছু হয়নি। তবে পরিচালক বলছেন সৌমি অভিনয় করছেন। ছবিতে তিন নায়ক তিন নায়িকা। তাদেরই একজন সৌমি।

এই দিকে ছবিটি নিয়ে অন্য কথা বললেন পরিচালক সায়মন তারিক। তিনি জানান, এই ছবিটির আগে নাম ছিল ‘দেবর আমার কত আপন’। এই নামেই আঁখি ফিল্মসের ব্যানারে পরিচালক সমিতিতে নিবন্ধিত আছে এবং ছবিটির পরিচালকও ছিলেন তিনি। দুইদিন কি তিনদিন শুটিং করার পর তিনি ছবিটি থেকে সরে গেছেন।

কেন সরে গেছেন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি যখন গল্পটা হাতে পাই, তখন তাদের বললাম এই গল্প চলবে না। গল্প পরিবর্তন করতে হবে। তাতে তারা রাজি হননি। তারপর ভাবীর চরিত্রের জন্য মৌসুমীকে চুক্তিবদ্ধ করি।

মৌসুমীও গল্প শুনে বললেন, গল্প পরিবর্তন করতে হবে। তারপর প্রায় মাসখানেক সময় নিয়ে আমরা লাইন-আপ করলাম। একজন স্বনামধন্য লেখককে দিয়ে লেখালামও। কিন্তু প্রযোজক সাইফুল ইসলাম আর ছবিটি করতে আগ্রহ দেখালেন না। তবে তিনি আমাকে যে গল্পটি দিয়েছিলেন সে গল্পটি অন্য একটি শুটেড গল্পের সঙ্গে মিল আছে।

এজন্য আমি আর গল্পটি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সম্মত হইনি। নিজের সম্মান নিয়ে নিজেই সরে এসেছি। তবে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত মৌসুমীও ছবিটি পরিচালনা থেকে সরে এসেছেন। তবে তিনি অভিনয় করছেন। মৌসুমীর ছেড়ে দেওয়া ছবিটি পরিচালনা করছেন নূর মোহাম্মদ মনি।

এ ব্যাপারে পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আটকে রাখার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আটকে রাখা হয়নি গতকাল রাতে শুটিং শেষ হয়েছে। ঢাকা থেকে টাকা আসার জন্য অপেক্ষা করছি। টাকা আসলেই চলে যাবো। জানা গেছে, হাউজ ভাড়া বাদেও ইউনিট ও শিল্পীরা টাকা পাবেন।

পরিচালক জানান, ঢাকা থেকে টাকা আসলেই সবার টাকা দিয়ে দেওয়া হবে।


ব্রেকিং নিউজ