শীত উপেক্ষা করে কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন

অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

জানুয়ারি ২৭ ২০২১, ১০:৩৮

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আজ বুধবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে সকাল ৮টার আগে থেকেই কেন্দ্রে আসতে থাকেন ভোটাররা।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরের চাঁন্দগাও শমসের পাড়া চাঁন্দমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ সারি। এ সময় ৬০ বছর বয়সী ইলিয়াস মিয়াকে দেখা যায় সবার আগে।

তিনি বলেন, ‘এবারই প্রথম ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোট। তাই তাড়াতাড়ি কেন্দ্রে চলে এসেছি, যদি কোনো সমস্যা হয়।’

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বহদ্দারহাট এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়েও ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিত লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করবে।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হাসানুজ্জামান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাই, ভোটকেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। আশা করছি, ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে পুরো নির্বাচনী এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।’

হাসানুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনে ৭ হাজার ৭৭২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে। সেই সঙ্গে ২৫ প্লাটুন বিজিবি, আছে র্যাবের ৪১টি টিম। এছাড়া পুলিশের রিজার্ভ টিম ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে নির্বাচনী এলাকায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ৪১৬টি কেন্দ্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১৮ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ১৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত আছেন।’

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাত প্রার্থী। এরমধ্যে রয়েছেন- প্রধান দুই দলের হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন। এছাড়াও রয়েছেন ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা এম.এ মতিন (মোমবাতি), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর (আম), ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলন’র মো. জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী খোকন চৌধুরী (হাতি)।

১৪ সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থী রয়েছেন ৫৭ জন। সাধারণ ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩৯ ওয়ার্ডে। ১৮নং ওয়ার্ডে হারুনুর রশিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। আর ৩১ নং আলকরণ ওয়ার্ডে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে ওই ওয়ার্ডে মেয়র ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৩৯ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১৬৮ জন প্রার্থী।

ভোটকেন্দ্র ও ভোটার :
নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটকক্ষ হচ্ছে ৪ হাজার ৮৮৬টি। প্রতি ভোটকক্ষে ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণ করা হবে। এবার ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন এবং মহিলা ভোটার ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন।

গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সেই অনুযায়ী ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে ২১ মার্চ নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ৫ আগস্ট চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও ৪১ জন সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৪ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মেয়াদ শেষ হয়। প্রশাসক হিসেবে খোরশেদ আলম সুজনকে নিয়োগ দেয় সরকার।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা :
ভোটগ্রহণে দায়িত্বে থাকবেন ১৬ হাজার ১৬৩ জন কর্মকর্তা। সকলকে ইভিএম বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৫ হাজার ৯০২ জন এবং পোলিং অফিসার ১০ হাজার ২৬৮ জন।

ইভিএম :
চসিক নির্বাচনে এবার প্রথমবারের মতো ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১১ হাজার ৫৭২ ইভিএম। চার হাজার ৮৮৯টি ভোটকক্ষের জন্য থাকবে একটি করে ইভিএম মেশিন। এছাড়াও দুটি কক্ষের জন্য একটি করে ইভিএম মেশিন অতিরিক্ত রাখা হবে। আর ঝুঁকি এড়ানোর জন্যও বিশেষ ব্যাকআপ রাখা হয়েছে।


ব্রেকিং নিউজ